স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনের সমন্বিত চর্চা স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্ট্রোক সাধারণত তখন ঘটে, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা কিংবা মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘ সময় অলস জীবনযাপনের কারণে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বয়স ৪০ বছরের পর থেকেই নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দ্রুত হাঁটা উপকারী
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে দ্রুত হাঁটার কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটলে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন ব্যায়ামের বাইরে থাকলে অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজন শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও
শুধু হাঁটা নয়, পেশি ও হাড়ের সুস্থতার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা উচিত। হালকা ওজন, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করেই এ ধরনের ব্যায়াম করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় রোধে এ ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যোগাসনে মিলবে অতিরিক্ত উপকার
শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও যোগাসন উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগাসন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা যোগাসনকে হাঁটার বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করেন।
সমন্বিত শরীরচর্চাই সবচেয়ে কার্যকর
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনের মধ্যে কোনো একটিকে আলাদাভাবে সবচেয়ে কার্যকর বলা যায় না। বরং তিনটির সমন্বয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়।
তারা আরও বলেন, শুধু ব্যায়াম করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। এ জন্য রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো এবং হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নেওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যায়াম নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



