পিরিয়ড নিয়ে কথার জাল: সেই বাঁধন ভাঙার ডাক এসএমসি জয়ার
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
পিরিয়ড নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। অথচ বিষয়টি ঘিরে সমাজে এখনো প্রচলিত রয়েছে নানা ভুল ধারণা, অযাচিত মন্তব্য ও অকারণ বিধিনিষেধ। কোথাও মেয়েদের চুপ থাকতে বলা হয়, কোথাও প্রশ্ন তোলা হয় তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ নিয়েও। এসব কথা ও আচরণ একসময় অদৃশ্য জালের মতো ঘিরে ধরে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতাকে।
সমাজের এই চেনা বাস্তবতাকে ভিন্নধর্মী ও প্রতীকী উপস্থাপনায় সামনে এনেছে এসএমসি জয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন। দুটি কৌতূহলজাগানিয়া টিজারের পর প্রকাশিত নতুন টিভিসিতে পিরিয়ডকে ঘিরে তৈরি সামাজিক সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এসব বাঁধন ভেঙে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা।
প্রচারণার টিজারগুলোতে পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক কথাবার্তা ও ধারণাগুলোকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। পরিচিত এসব মন্তব্য কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না; ধীরে ধীরে সেগুলো মেয়েদের চারপাশে তৈরি করে অদৃশ্য সীমারেখা। নতুন টিভিসিতে সেই বাস্তবতাই আরও বিস্তৃতভাবে ফুটে উঠেছে—কীভাবে ভুল ধারণা, সামাজিক চাপ ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ একজন মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই প্রচারণার মূল বক্তব্য—পিরিয়ড নিয়ে অস্বস্তি, ভয় কিংবা গোপনীয়তা নয়; প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সহমর্মিতা ও খোলামেলা আলোচনা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের দায়িত্ব মেয়েদের ভয় দেখানো বা সীমাবদ্ধ করে রাখা নয়; বরং তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।
এসএমসি জয়ার এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি পণ্যের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলেরও আহ্বান। ভুল ধারণা ও অস্বস্তিকর নীরবতার জাল ছিন্ন করে মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার বার্তাই উঠে এসেছে পুরো প্রচারণায়।
বার্তাটি স্পষ্ট—পিরিয়ড লজ্জা বা সংকোচের বিষয় নয়। কথার জাল ও ভুল ধারণার বাঁধন ভেঙে প্রতিটি মেয়ের অধিকার আছে স্বস্তি, স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার।



