নতুন পরজীবীর হানা, যৌনাঙ্গ সংক্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শামুকবাহিত এক ধরনের পরজীবী সংক্রমণ, যা মানুষের যৌনাঙ্গসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই পরজীবীজনিত রোগ ‘স্নেইল ফিভার’ ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই রোগের সংক্রমণে যৌনাঙ্গে ক্ষত সৃষ্টি, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ এই রোগের চিকিৎসা নেন। আক্রান্তদের বড় অংশ আফ্রিকার হলেও বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৭৮টি দেশে স্নেইল ফিভারের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়াও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পরজীবী ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে আশ্রয় নেয়। এরপর কোনো লক্ষণ ছাড়াই ডিম পাড়ে, যা লিভার, ফুসফুস এবং যৌনাঙ্গে জমা হতে থাকে। দীর্ঘদিন শরীরে অবস্থান করলেও অনেক সময় রোগটি শনাক্ত হয় না। উদ্বেগের বিষয় হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরজীবীটির ধরন আরও শক্তিশালী ও অভিযোজিত হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) স্নেইল ফিভারকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরজীবীটির জিনগত গঠন ও আচরণে পরিবর্তন আসছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা অর্জন করছে।
যেভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার
এই রোগের মূল বাহক একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির শামুক। শামুক আক্রান্ত পানিতে থাকলে পরজীবীর লার্ভা সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ বা প্রাণী যদি সেই পানির সংস্পর্শে আসে, তবে লার্ভা ত্বক ভেদ করে শরীরে ঢুকে পড়ে।
শরীরে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমি ডিম পাড়ে, যার কিছু অংশ মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরেই আটকে যায়। এসব ডিমের কারণে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় আশপাশের সুস্থ টিস্যুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে জমে ‘ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস’ নামের জটিল রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগে তীব্র পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার নিরাময় সম্ভব। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ গবেষকরা সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু পরজীবী ধরন বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে।
হাইব্রিড পরজীবীতে বাড়ছে ঝুঁকি
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মানুষের শরীরের পরজীবী ও প্রাণীর শরীরের পরজীবী একত্র হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড’ প্রজাতি তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই সংক্রমিত করতে সক্ষম, ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই নতুন ধরনগুলো অনেক সময় মাইক্রোস্কোপে প্রচলিত পরজীবীর মতো দেখায় না। ফলে উপসর্গগুলো যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল চিকিৎসা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসা না হলে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে এর শারীরিক, সামাজিক ও প্রজননজনিত প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।



