Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন ট্রাম্প

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে পরিচিত আইনসভা বা কংগ্রেস নির্বাচনে উচ্চকক্ষ সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে আছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে দলটি। এর ফলে দেশটির ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপে আছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের রাষ্ট্রক্ষমতার শেষ দুই বছর প্রথম দুই বছরের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আসলে কী করতে পারবে? এতে ট্রাম্পের জন্যই বা কী পরিণতি অপেক্ষা করছে?

যা যা করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। দলটির নেতা হাকিম জেফরিস সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে আছেন।

এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে আইন পাস করা কঠিন হবে। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন নথি ও সাক্ষ্য তলব করতে পারবে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবে।

এ ছাড়া বিরোধীদের চাপের মুখে ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন বা ‘অনাস্থার’ উদ্যোগও নিতে পারে দলটি।

কেবিনেট সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারপতি নিয়োগে সেনেটর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

তাই সেনেটর নিয়ন্ত্রণ থাকলে ট্রাম্পের অনেক নিয়োগ আটকে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও হোয়াইট হাউসকে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করতে পারবে।

কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা?

রাজনৈতিক প্রতিবেদক জোসেফ গেডিয়নের বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত শুরু করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা: প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প পরিবারের দুর্নীতির অভিযোগকে তদন্তের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। কংগ্রেস সদস্য জেমি রাসকিন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের তথ্যও চেয়েছেন।

এপস্টিন ও ইমেইল বিতর্ক: কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও টমাস ম্যাসির যৌথ উদ্যোগের কারণে গত বছর শিশু নির্যাতনকারী প্রয়াত ধনকুবের জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তবে শুরুতেই নথি প্রকাশের জন্য আইন নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন করে বিভাগটি। পরে তাদের হেফাজতে থাকা ৬০ লাখ পৃষ্ঠার মধ্যে ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়। বাকি নথিগুলোকে একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বলে দাবি করে বিচার বিভাগ।

প্রকাশিত নথির কিছু অংশে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য গোপন করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত ভুক্তভোগীদের নাম প্রকাশ পেয়েছে। এসব ঘটনায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যরাই উদ্বেগ জানিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং।

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বর্তমান কংগ্রেসেও নজরদারি কমিটির মাধ্যমে এ বিষয়ে দুই দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমারের নেতৃত্বে দুই দলের সদস্যরা সাক্ষীদের তলব করেছেন। তলবে সাড়া না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার উদ্যোগও নিয়েছেন। নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকতে পারে।

পেন্টাগন ও যুদ্ধ: কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তর পেন্টাগনকে দিয়ে তদন্ত শুরু করতে চান। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা কমিটির সদস্য। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী ককাসের সহসভাপতির দায়িত্বেও আছেন। তার এই উদ্যোগের পেছনে আছে কিছু প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতের অর্থ ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিশংসন: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে অজনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন বা অনাস্থার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে দলটি কোনো সম্ভাবনাই নাকচ করছে না। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিসের ধারণা, নতুন কংগ্রেসের প্রথমদিন থেকেই ট্রাম্পকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যা করেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্য পেয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। এরপর দ্রুত বেশ কয়েকটি তদন্ত শুরু করে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটি। ট্রাম্পের ব্যবসা, রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্ত সামলানোর পদ্ধতি ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ২০১৯ সালে ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেয় প্রতিনিধি পরিষদ। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ছিল, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য সংগ্রহ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে কংগ্রেসের তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন তিনি।

তবে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সেনেটে অভিশংসনের দুই অভিযোগ থেকেই খালাস পান ট্রাম্প।

এরপর ২০২১ সালে ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত হন ট্রাম্প। সেবারও সেনেটে খালাস পান তিনি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন