৬ মাসের ইরান যুদ্ধে মার্কিন তেল কোম্পানির মুনাফা ১৩০ বিলিয়ন ডলার
যুগের চিন্তা ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির দামে। বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন এই পরিস্থিতিতে বিপুল মুনাফা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টির বেশি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা করেছে।
অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও কম। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের মুনাফা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ কমে যায় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
এ ছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতাও কমেছে। এতে সচল শোধনাগারগুলো বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ পেয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের মুনাফায়।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের আর্থিক ফলাফলও এ চিত্র তুলে ধরেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সনমোবিলের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে শেভরনের মুনাফা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।
তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সুফল কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ালেও এর বড় আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের হিসাব বলছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে অতিরিক্ত প্রায় ১৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এতে গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের বাড়তি খরচ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ ডলারের বেশি।
এ বিষয়ে এক্সনমোবিলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেইল হ্যানসেন বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর যে চাপ তৈরি করছে, তা তারা উপলব্ধি করেন। তবে রাতারাতি বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থার পেছনে বহু বছর আগের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কাজ করে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে অসম প্রভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। একদিকে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।



