Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ফাইল ছবি)

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে মস্কো এমন কোনো সংঘাত চায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার সতর্কবার্তা, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। আর ইউরোপীয় দেশগুলো যে এই বিষয়টি ভুলে না যায়।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেয়া উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত। উত্তেজনা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না।

পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’

২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছি না। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।’

বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না’। আর ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই বিষয়টি ‘ভুলে না যাওয়ার’ আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ নেতা জানান, ইউরোপীয় নেতারাই এই ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আলোচনাটিকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।

এদিকে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে সম্ভবত স্থল অভিযান চালিয়ে সীমিত আকারে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন পুতিন। এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলাও চালাতে পারে মস্কো।

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড’ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর সক্ষমতা পরীক্ষা করে আসছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

এ সপ্তাহে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধে ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ন্যাটোর এই সম্প্রসারণকেই পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

পুতিন সম্ভবত ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবেন। এর অর্থ হতে পারে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর মতো অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারে।

টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে হলে আমাদের তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমত, আমাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালানোর আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। আর তাতেও কাজ না হলে, যুদ্ধের জন্য যুক্তরাজ্যকে প্রস্তুত রাখতে হবে।’

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন