যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার ডিজেল পাঠাচ্ছে রাশিয়া
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
রাশিয়া প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাংকার বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রুশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ডিজেল সরবরাহ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারটি কোন বন্দর থেকে যাত্রা করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, এটি কেবল প্রথম চালান। ভবিষ্যতে আরও ডিজেল সরবরাহ করা হবে এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে রাশিয়া তার সক্ষমতা অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া প্রথম ধাপে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বর মাসে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর রপ্তানি
গত ৯ অক্টোবর রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মস্কো।
পুতিন-উইটকফ বৈঠকে গুরুত্ব পায় জ্বালানি ইস্যু
বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠকে ডিজেল রপ্তানি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পুতিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ৫ থেকে ৬ শতাংশ কমেছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একের পর এক ডিজেলবাহী ট্যাংকার আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ডিজেলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহের সক্ষমতাও রাশিয়ার রয়েছে।
কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা
জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এই নতুন সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি, মূল্য পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর এই উদ্যোগ কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পর্যবেক্ষকদের।



