সৌদি আরবগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী
যুগের চিন্তা ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ১০০টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে গত শনিবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ দিনে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারেননি। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অনেকের ছুটি শেষ হয়ে গেছে। আবার কারও কারও ভিসা ও আকামার মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বাতিল বা স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও এ দুই রুটে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে।
তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের মদিনা ও জেদ্দা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল করছে। এসব ফ্লাইটে আসন খালি থাকলে রিয়াদ ও দাম্মামগামী কিছু যাত্রীকে বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীর তুলনায় এ সুযোগ সীমিত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ কালবেলাকে বলেন, স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জেদ্দা ও মদিনা রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের অনেকেই এসব বিকল্প রুটে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, যেসব যাত্রীর ভিসা বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাদের বিকল্প রুটের ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষেই তাদের নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে আছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসীরা। বিশেষ করে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এবং ভিসা ও আকামার মেয়াদ নিয়ে উদ্বিগ্ন যাত্রীদের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।



