ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুগের চিন্তা ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান অনুমোদন করলে এ অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।
জিবিইউ-৪৩/বি নামের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বিস্ফোরক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএসের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রথমবার এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হলে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম হলেও গভীর ভূগর্ভস্থ ও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকার ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। এসব স্থাপনা পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলোতে আঘাত হানতে বিশেষ ধরনের গভীর অনুপ্রবেশক্ষম অস্ত্র প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি। জনবসতির কাছাকাছি অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এমন সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্প মূল্যায়ন করছে, যার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কৌশলগত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা তার নেই। যদিও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার মতে, পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সেই অবস্থানও বদলাতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই অবস্থান নিয়েছে পেন্টাগনও, যারা বলেছে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে হলে শুধু বিমান হামলা যথেষ্ট নাও হতে পারে; সেক্ষেত্রে বড় আকারের স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে এবং এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ সীমিত বলে জানা গেছে।
সূত্র: সিএনএন



