ডলারের দর কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম
যুগের চিন্তা ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমে আসার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম ৭ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কমেক্স মার্কেটে ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৩০ ডলারে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নীতি নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। সেই অনিশ্চয়তার প্রভাব স্বর্ণের বাজারেও পড়েছে।
বুধবার ডলারের সূচক গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও বৃহস্পতিবার তা কিছুটা দুর্বল হয়। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বাজারের অনিশ্চয়তাই বর্তমানে স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রধান কারণ।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গতি আবারও বেড়েছে। এর ফলে চলতি মাসের শেষদিকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ২৯ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ছিল ২২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা থাকলেও সুদের হার বৃদ্ধি সাধারণত স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬০৮ দশমিক ২০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১০৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।



