রাশিয়ার ওপর হামলা হলে পরমাণুসহ ‘সব অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে সরাসরি হামলা হলে পরমাণু অস্ত্রসহ রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিকল্পনা নেই।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় অনুষ্ঠিত ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন বলেন, বাল্টিক সাগর অঞ্চলে ন্যাটোর ধারাবাহিক সামরিক মহড়া, রুশ জাহাজ আটকের প্রচেষ্টা এবং কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য মস্কোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার অন্য কোনো ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশটির হাতে থাকা সব ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে আসবে। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিকে “অনিবার্য” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো প্রচেষ্টা হলে রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখতে পারে বলে ন্যাটোর কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল মস্কো। এ বিষয়ে ন্যাটো রাশিয়ার বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পরমাণু হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, জোটের সামরিক তৎপরতা প্রতিরক্ষামূলক এবং তা রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়।
পুতিন অবশ্য বলেন, রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায় এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছে না। তবে দেশের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে জবাব দিতে বাধ্য হবে মস্কো।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত করা বিপজ্জনক হতে পারে। তার দাবি, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে দেশের অর্থনীতিও কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। তবে এসব হামলার জবাবে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভালদাই ফোরামে পুতিন আরও বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি “বিপজ্জনক সময়” অতিক্রম করছে। ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র কখনো ব্যবহার হবে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জরুরি।
উল্লেখ্য, কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল, যা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগর উপকূলে অবস্থিত। এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।



