ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত কমেছে, স্বীকার করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ পড়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাতে কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দ্রুতই তা পূরণ করা হবে। এর মধ্যেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে। তবে এসব অস্ত্রের মজুত আবার এমন পর্যায়ে নেয়া হবে, যা আগে কখনো হয়নি।
মার্কিন প্রতিক্ষো দপ্তর পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রেও জট তৈরি হয়েছে। তবে ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও বাড়ানো হতে পারে। এর আগে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেয়েছে।
বিবিসি বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনী দূরপাল্লার স্থল হামলার অস্ত্রের পাশাপাশি ইরানের হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপুল পরিমাণে ব্যবহার করেছে।
দ্য সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) গত জুলাইয়ে এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছিল, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)-এর মতো কিছু প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঘাটতি অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
বিভিন্ন মূল্যায়নে মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পরও টাইমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো অবস্থায়’ আছে এবং বড় পরিসরে অস্ত্রের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় একটু কম। আমাদের মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি পর্যায়ের গোলাবারুদ রয়েছে, যেগুলো খুবই শক্তিশালী।’
তবে ঠিক কোন কোন অস্ত্রের মজুত কমেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতারা দেশজুড়ে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। টাইমকে ট্রাম্প বলেন, প্রস্তাবটি ‘যথেষ্ট ভালো নয়’। নভেম্বরের নির্বাচন শেষে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবিশ্বাস্য কাজ’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে অবশ্য ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ ‘তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাবে’, কারণ ইরান আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেছিলেন, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে ইরান ‘মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে’।
সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ দেশে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য ট্রাম্পের নীতির পাশাপাশি ইরান যুদ্ধকেও দায়ী করছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সমর্থন জানিয়েছেন। আর সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ২৬ শতাংশ মানুষ। অর্থনীতি নিয়ে এটিই তার সর্বনিম্ন সমর্থনের হার।
এমন অবস্থায় আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে। এর আগে ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ক্ষতি করতে পারে বলে দলটির নির্বাচনী কৌশলবিদরা উদ্বিগ্ন বলে খবর এসেছে।
তবে টাইমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জরিপের ফলাফলকে ‘ভুয়া সংখ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আগামী মাসের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে তিনি নিজে প্রচারণায় নামতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি প্রচারণা চালালে আমরা ভালো করব। আর আমি তা করার পরিকল্পনা করছি’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কারও হয়ে প্রচারণা চালাই, ওই ব্যক্তি জিতবে।’



