যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে চেষ্টা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
আলোচনায় ইরানের গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বাইরে দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে কথা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল আবার চালুর শর্ত নিয়ে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরাগচি বলেন, আমেরিকানরা যদি বলে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধান উপস্থাপন করেছি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করা, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদে জব্দাদেশ তুলে নেওয়া, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ করা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার অনুমতি দেবে।
এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল বা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের ইচ্ছা নিয়েও দুই পক্ষ আবার আলোচনা শুরু করবে।
এর আগে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুইবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে দুইবারই সেই যুদ্ধবিরতি দ্রুত ভেঙে যায়।
সূত্র: রয়টার্স



