Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

হাসিনা ইস্যু ঢাকা ও নয়াদিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

হাসিনা ইস্যু ঢাকা ও নয়াদিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘আশা’ প্রকাশ করেছেন যে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্যা বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করবে।

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গটি আসে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তার কাছে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে এই ইস্যুটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমরা এখনো কিছু নির্দিষ্ট করিনি।’

মার্কিন ওই কর্মকর্তার কথায় যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত খবরদারির আঁচ ছিল না। বরং দ্বিপক্ষীয় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই দেশের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার কথায় এটা স্পষ্ট যে, দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থানকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য ‘প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে স্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মকর্তা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের দিকে পাল্লা ভারী করেননি, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বিষয়টিকে বাংলাদেশের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি বোয়িং চুক্তি ও বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার অবস্থায় আছে। আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করতে চলমান প্রচেষ্টার সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের আরও সমৃদ্ধির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি এরপর বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা আমার কাছে যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে না।’

ব্রিফিংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো অভিযোগ বা এ বিষয়ে বিএনপি সরকারকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়নি। এই অবস্থান স্পষ্টতই ক্ষমতাসীন বিএনপিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করবে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালুর অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের হতাশ করবে।

সার্বিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে, অন্তত বর্তমান সময়ের জন্য বাংলাদেশের নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ সন্তুষ্ট।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন