গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি সই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হুমকি, উত্তপ্ত আলোচনা ও তীব্র বিতর্কের পর ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ড ইস্যুতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রীনল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ তিনটির পক্ষে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক এই নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ত্রিদেশীয় এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকি-ধামকির জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার আপাতত অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
১০ পৃষ্ঠার এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন পিটুফিক বিমানঘাঁটিতে তাদের কার্যক্রম আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি দ্বীপটির দক্ষিণে নারসারসুয়াক ও পূর্বে মেস্টারসভিগ-এ নতুন প্রতিরক্ষা এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিটিতে ‘ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’-কেও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘দীর্ঘমেয়াদী ও চমৎকার সহযোগিতার’ সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এটিকে ড্যানিশ-মার্কিন সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন এই ‘ত্রিপক্ষীয় লাভজনক’ চুক্তিকে স্বাগত জানালেও তিনি স্বীকার করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন বলে বারবার জোর দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তার এই অবস্থান ন্যাটোর মিত্র দেশ ডেনমার্ককে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এই ইস্যুতে জোটের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়। এ ছাড়া সেখানে প্রচুর অব্যবহৃত বিরল খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার ফলে অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



