ইরানে জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ইরানের তেহরানে একটি মহাসড়কের পাশে প্রয়াত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিকৃতিসহ একটি বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। ছবিটি চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল তোলা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে একটি জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার পর ওই বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেক ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) হামেদান-সানানদাজ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে। এতে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেক ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানানদাজের গভর্নর। তিনি আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহত মানুষের সংখ্যা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং এর জেরে সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তারা আর কোনো তথ্য দেননি।
ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার ও বাস দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। দেশটির সড়কের খারাপ অবস্থা, পুরোনো যানবাহন এবং ভারী পণ্যবাহী গাড়ির বেশি চলাচলের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
২০১৮ সালে সানানদাজের কাছে যাত্রী তোলার জন্য থেমে থাকা একটি বাসে জ্বালানি ট্যাংকারের ধাক্কায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড় সড়ক দুর্ঘটনার তুলনায় ২০ গুণ বেশি। দেশটিতে সড়কের দুরবস্থা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের ২০১৭ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ মানুষ আহত হন।



