Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

অভিযোগ রাহুলের

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ

ভারতের লোকসভায় শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের অনুমোদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

বুধবার সংসদে অ্যান্টি প্রশ্নফাঁস বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তুমুল হট্টগোল।

ক্ষমতাসীন জোটের সদস্যরা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দাবি করেন।

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছিল, তার অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করতে বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এই ঘটনার জবাবদিহি দাবি করেন।

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতাসীন জোটের সদস্যরা প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, এমন গুরুতর অভিযোগের পক্ষে অবশ্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

বিজেপি ও এনডিএর সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এতে কিছু সময়ের জন্য লোকসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করেন। তিনি রাহুল গান্ধীকে স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে হলে তার পক্ষে যথাযথ তথ্য ও প্রমাণ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এই বিতর্কের সূত্রপাত গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা সেখানে সমাবেশ করেন। পরে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি।

পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের সংলাপ শুরু করতে হবে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের ব্যাখ্যা চান। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

তিনি জানতে চান, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এর জন্য কে দায়ী। তার দাবি, ওই অভিযানে শত শত আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।এদিকে সরকারপক্ষ রাহুল গান্ধীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি বলেন, আন্দোলনকে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংসদের ভেতরের এই নতুন বিতর্কে শিক্ষার্থী আন্দোলন আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী দিনে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন