পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় কুয়েত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে কুয়েত-পাকিস্তান। এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় কুয়েত।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে এই আলোচনা জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত সোমবার ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালায়। এরপর পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ইরানকে জানায়, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সংঘাতে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছে কুয়েত। ফলে এ মুহূর্তে পাকিস্তান যদি কুয়েতের সঙ্গে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যদিও কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ২০২৩ সাল থেকে বহাল আছে। তবে এখন কুয়েত পাকিস্তানের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইছে, ঠিক সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো।
পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান এতটা এগোতে রাজি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, বহু দশকের পুরোনো মিত্রতার ভিত্তিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এমন ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার মতো বিষয়ও আছে। তবে সূত্রটি বলেছে, এটি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে এক পাক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।’
প্রতিরক্ষায় বড় জোট
গত এক বছরে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।পাকিস্তানের বড় একটি সামরিক বাহিনী আছে এবং নিজস্ব যুদ্ধবিমানও তৈরি করে দেশটি।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ পাকিস্তানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখছে না। পাকিস্তানকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।
সূত্রগুলো বলছে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। এটি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে আলাদা একটি উদ্যোগ। এ ছাড়া বাহরাইনও একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহী। এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একটি চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে জর্ডান।
তেলের বিনিময়ে প্রতিরক্ষা
পাকিস্তান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে জরুরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপায় হিসেবে দেখছে। কুয়েতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা চায়। এটি পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তেল ও জ্বালানির মজুত বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত পাকিস্তানের একটি সূত্র বলেছে, কুয়েত পাকিস্তানে শুল্ক–সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আগে থেকে থাকা ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এগোতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে এলে এ নিয়ে আলোচনা আরও গতি পাবে। এ ধরনের প্রস্তাব পাকিস্তানকে আরও বড় পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে।



