যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বিশ্বনেতাদের প্রশংসার জোয়ার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এ সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্বনেতারা। চুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরবর্তী তিন মাসে যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধরত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ডের সরকারপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ উদ্যোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চুক্তিটিকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন। সৌদি আরব ও কাতার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ সমঝোতার প্রশংসা করে এবং পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান পাকিস্তানের ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও এ কূটনৈতিক সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশ্বনেতাদের মতে, এ চুক্তি শুধু যুদ্ধের অবসানই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার পথও সুগম করবে।
উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির দুই দেশের মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলেও পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।



