সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার নকশা নিয়ে বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ হওয়ার শঙ্কায় মেঘালয়ের গ্রামবাসী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বর্তমান নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে পুরো গ্রামটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পিনুরসলা উপ-বিভাগের লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা অবিলম্বে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের শূন্যরেখা বা জিরো লাইন থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। তবে লিংখং গ্রামটি একেবারে জিরো লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। গ্রামের অনেক বাড়িঘর বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে হওয়ায় বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে তাদের পুরো গ্রাম ভারতের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে চলে যাবে। এতে নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের একটি অস্থায়ী বেড়া তৈরি করেছিলেন, যা এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে।
গ্রামপ্রধান রামু সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, তারা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে তাদের দাবি, বেড়াটি যেন একেবারে জিরো লাইনে নির্মাণ করা হয়, যাতে গ্রামটি ভারতের ভেতরেই এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে গ্রামের মানুষের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি দ্রুত রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান।
সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও স্থানীয় জটিলতার কারণে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি আউটপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ সদস্যরা স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে মেঘালয়ের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে জিরো লাইনে একক সারির কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য হিন্দু।



