বিএসএফের পুশইন নিয়ে উদ্বেগ পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর (গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি)। সংগঠনটি বলছে, সীমান্তে এমন পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর অভিযোগ করেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) তাদের গ্রহণ না করায় তারা শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন।
সংগঠনটির দাবি, আটকে পড়াদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের।
এপিডিআর বলছে, একদিকে বিএসএফ এসব মানুষকে বাংলাদেশি দাবি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে থাকা মানুষগুলো কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
এ অবস্থাকে মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি ভারতের কথিত “থ্রি-ডি নীতি”—চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও নাগরিক পরিচয় মুছে দেওয়ার নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের নীতি ভারতের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখায় কয়েক ডজন মানুষ আটকে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে বিজিবি।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত সাড়া দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশ করেছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা সব মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভারসাম্য রক্ষা না হলে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



