আফগানিস্তানকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে রাশিয়া
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ এই সামরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল এবং সম্প্রতি তার সফরের সময় চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হয়।
জানা গেছে, চুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ড্রোন বা হামলাসংক্রান্ত অন্য কোনো প্রযুক্তি এই চুক্তির অংশ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও কাবুলে নিজেদের দূতাবাস চালু রাখা গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।
২০২২ সালে রাশিয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ শুরু হয়।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার সময় আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, এরপর থেকেই তালেবান সরকার আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই বলেছিলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতায় তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একইভাবে সের্গেই শোইগুও সম্প্রতি জানান, রাশিয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে।
এদিকে তালেবান সরকার দাবি করছে, তারা আফগানিস্তানের মাটিকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবারের মতো তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোনো আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেন।



