ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা যখন সম্ভাব্য অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পুরোনো কৌশলে ফিরেছেন। এবার তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি যুদ্ধের ছবি শেয়ার করেছেন, যার ক্যাপশন ছিল, ‘অ্যাডিওস’ (বিদায়)।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি মার্কিন ড্রোন ইরানের পতাকাবাহী নৌযানগুলোর দিকে হামলা চালাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মাঝেই ট্রাম্প এই পোস্টটি দিলেন।
যদিও ‘অ্যাডিওস’ শিরোনামের ছবিটি ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্পের প্রথম এআই-ভিত্তিক সতর্কবার্তা নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি একাধিকবার এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানি জাহাজে ড্রোন আক্রমণ, ইরানকে লক্ষ্য করে তৈরি মানচিত্র এবং ভবিষ্যতধর্মী ‘স্পেস ফোর্স’-এর দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
একদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের সামরিক নেতারা যুদ্ধ আবার শুরু হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলি আব্দুল্লাহি রোববার সতর্ক করে বলেন, দেশের ওপর কোনো হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও নরকসম জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্প যদি পুনরায় সংঘাত শুরু করেন, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের তুলনায় আরও বিধ্বংসী ও তিক্ত হবে।
তবে একই সময়ে ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব কিছু ভালো খবর পেতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, একটি চুক্তির বিষয়ে বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরের পর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে যেকোনো আলোচনা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হতে পারে।



