আফগানিস্তানে নতুন আইনে বাল্যবিয়েকে বৈধতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে বাল্যবিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে তালেবান সরকার। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সম্প্রতি অনুমোদিত এই নতুন বিবাহবিচ্ছেদ আইন কার্যকর হলে কোনো নারী বা তরুণীর পক্ষে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডিভোর্স নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অধিকারকর্মীরা এটিকে আফগান নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একটি বেসরকারি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে কম বয়সে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো নারী যদি দাবি করেন তার অমতে বিয়ে হয়েছে, তবুও স্বামী রাজি না থাকলে তিনি আইনি বিচ্ছেদ পাবেন না। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলেও বা ভরণপোষণ না দিলেও এককভাবে ডিভোর্স নেওয়া সম্ভব হবে না।
এই আইনকে কেন্দ্র করে কাবুলে নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। আন্দোলনকারী ফাতেমা বলেন, “নারীবিরোধী শত শত ডিক্রি জারির পর তালেবান এখন বাল্যবিয়েকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছে।” জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউনামা)ও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “যারা ইসলামের ভিত্তির বিরোধিতা করে, তাদের বিক্ষোভে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, বাল্যবিয়ের শিকার অধিকাংশ মেয়েই চরম পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি দাইকুন্দি প্রদেশে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্বামীর নির্যাতনে মারা গেছে।
আফগানিস্তান ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের আব্দুল আহাদ ফারজাম বলেন, নতুন আইন নারীর স্বাধীন সম্মতির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।



