জ্বালানি পরিবহণে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তান-ইরাকের চুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
হরমুজ প্রণালীর জ্বালানি পরিবহণে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। এর অংশ হিসেবে ইরাক ও পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে জ্বালানি পরিবহণ চুক্তি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহণের জন্য দুই দেশই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত এই অঞ্চল থেকেই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ করায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের ক্লদিও স্টয়ার বলেন, “হরমুজ আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, এটি এখন ইরানের নিয়ন্ত্রিত করিডর।”
সূত্র জানিয়েছে, বাগদাদ ও তেহরানের গোপন সমঝোতায় ইরাকের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে পৃথক চুক্তির আওতায় কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি জাহাজ পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। শিল্প সূত্র বলছে, এই পরিবহণও ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে পাকিস্তান মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো পেত, কিন্তু সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বেড়েছে।
এমএসটি মারকির গবেষণা প্রধান সল কেভোনিক মন্তব্য করেছেন, আরও দেশ ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধের আগে মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ হরমুজ ব্যবহার করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। ইউরোপ ও এশিয়ায় এলএনজির দামও বেড়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।



