বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ঠিক করলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা জোরদারে প্রস্তুত রয়েছে ভারত—এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের যোগাযোগ কিছুটা ধীর হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালে তার ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন সরকারের সঙ্গেও ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সক্রিয় করার উদ্যোগ চলছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভিসা সহজীকরণ এবং সম্ভাব্য সেপা (CEPA) চুক্তি নিয়েও দুই দেশ আগ্রহী বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল—এমন অভিযোগ নাকচ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং এসব বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিকে কার্যকর উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর নবায়ন করা হবে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, সব বিষয়েই বাস্তবসম্মত উপায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চায় ভারত।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো একটি নির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই সব ধরনের ভিসা স্বাভাবিক করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ত্রিপক্ষীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে, তবে এমন কোনো সম্পর্ক যেন না হয় যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সীমান্তে বিষাক্ত সাপ বা কুমির ছেড়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর খবর প্রসঙ্গে তিনি হাস্যরসের সঙ্গে জানান, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়।



