লন্ডনে এপস্টেইনের মানবপাচার চক্রের ভয়াবহ তথ্য ফাঁস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
লন্ডনে যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মানবপাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্রের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত লাখ লাখ ইমেইল, ব্যাংক রেকর্ড ও রসিদ বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত অনুসন্ধানে জানা গেছে, লন্ডনের অভিজাত কেনসিংটন ও চেলসি এলাকায় এপস্টেইন চারটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে নারী ও তরুণীদের রাখা হতো, যাদের পরবর্তীতে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ছয়জন নারী এসব ফ্ল্যাটে ছিলেন, যারা পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের বড় অংশই রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের নাগরিক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৫ সালে ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামের এক নারী অভিযোগ করার পরও ব্রিটিশ পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে এপস্টেইন বছরের পর বছর তার অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যান।
নথি অনুযায়ী, গ্রেফতারের কয়েক মাস আগে পর্যন্ত তিনি লন্ডনের ফ্ল্যাটে থাকা নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের পড়াশোনা, ফার্নিচার ও ইংরেজি কোর্সের খরচ দিতেন। বিনিময়ে অনেককে নতুন নারী সংগ্রহে বাধ্য করা হতো। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি ইউরোস্টার ট্রেনে অন্তত ৫৩ বার নারীদের ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে আনা-নেওয়া করেছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী টেসা গ্রেগরি ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কেভিন হাইল্যান্ড পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত না করা বড় ব্যর্থতা।
বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০২০ সালে আরেক নারী অভিযোগ করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। এ ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং অভিজাত নাগরিক ক্লেয়ার হ্যাজেল-এর নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই কোনো অন্যায় অস্বীকার করে আসছেন।
এপস্টেইনের মৃত্যু হলেও তার সহযোগীদের অনেকেই এখনও লন্ডনে বসবাস করছেন। ভুক্তভোগী নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে প্রকাশ্য গণতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি



