মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় আবারও বাড়লো তেলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময়ও এ দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন, জাহাজ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ করতে হবে।
সৌদি আরবের উৎপাদন ক্ষতি
সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহনও প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে ওঠানামা হলেও সাধারণ মানুষের নাগালে জ্বালানির দাম ফিরতে সময় লাগবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে ট্যাংকারগুলো দূরে সরে গেছে, ফেরত আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।
মাত্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে অনেক কোম্পানি দ্বিধায় রয়েছে।
দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক তেলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলো পুনরায় চালু করতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগবে।
যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।



