ডুরান্ড লাইনে হামলার জেরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম
ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানকে সেই ঘোষণারই অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী, আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।
এই বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানে বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া আরেক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু হয়েছে। এতে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ও স্থলবাহিনী অংশ নিয়েছে। অভিযানে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মোশাররফ জাইদি আরও জানান, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে আফগান বাহিনীর ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তান আর্মি। বিমান হামলায় আফগান সেনাবাহিনীর দুটি সেনা সদরদপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদরদপ্তর, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর, দুটি সেক্টর সদরদপ্তর, ৮০টির বেশি ট্যাংক এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হন। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল এবং নিহতরা সবাই টিটিপির সদস্য।
তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করে, জঙ্গিঘাঁটি নয় বরং বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। এরপর তারা প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
সবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানি সেনাচৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এতে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও কয়েকজন অপহৃত হন বলে জানা গেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এক্সে দাবি করেন, তাদের সেনারা নাইট ভিশন ও লেজারনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালিয়েছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তান, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সূত্র : ডন, এনডিটিভি



