৪২ যুদ্ধজাহাজ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর মহড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল সামরিক মহড়া ‘মিলান ২০২৬’ গত বুধবার সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই বহুজাতিক মহড়ায় বন্ধুপ্রতীম ১৮টি দেশের নৌজাহাজসহ মোট ৪২টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ২৯টি সামরিক উড়োজাহাজ এই মহড়ায় অংশ নিয়ে আকাশপথের শক্তির মহড়া দেয়। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ক্যামারাডারি, কো-অপারেশন, কোলাবোরেশন’ অর্থাৎ সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সংহতি। বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত বিশাল বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত-এর ডেকে এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজনের ইতি টানা হয়। ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, এবারের মিলান মহড়া ছিল আগের তুলনায় অভূতপূর্ব এবং এর প্রধান লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
মহড়াটি দুটি প্রধান পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ছিল ‘হারবার ফেজ’, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নৌ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ‘সি ফেজ’ বা সমুদ্র পর্ব, যেখানে উচ্চমাত্রার সামরিক অনুশীলন পরিচালনা করা হয়। এই পর্বে ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক সামুদ্রিক নজরদারি উড়োজাহাজগুলো অন্যান্য দেশের নৌবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে।
সমুদ্রের গভীরে ও উপরিভাগে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধকৌশল এবং সামুদ্রিক বাধা প্রদানের মতো কঠিন সব অভিযান এই মহড়ায় সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া ক্রস-ডেক ফ্লাইং অপারেশন ও লাইভ ফায়ারিং অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের কামান ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্রের সক্ষমতা যাচাই করে। প্রতিটি দেশ যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাদের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এই মহড়ায় নজিরবিহীন শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। আইএনএস বিক্রান্ত ছাড়াও বিশাখাপত্তনম-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, নীলগিরি-শ্রেণির প্রজেক্ট ফ্রিগেট এবং ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল আইএনএস নিস্তারসহ অত্যাধুনিক সব যুদ্ধজাহাজ এই মহড়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই মহড়াকে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।



