পরমাণু আলোচনা চলাকালেই তেহরানে ফের জেন-জি বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ মানুষ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণ ও বিচার দাবিতে শনিবার আন্দোলন শুরু করে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। এর পাল্টা হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থকরাও মিছিল-সমাবেশের ডাক দেন।
ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি–র আমলের পতাকা হাতে মিছিল করছেন। বিক্ষোভে সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিও শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় চাপে রয়েছে ইরানের অর্থনীতি। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকদের আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন। তবে পরে তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি তথ্যমতে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। ইরানের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বেশি, প্রায় ১৫ হাজার মৃত্যুর কথাও শোনা যাচ্ছে। সূত্র : এএফপি।



