ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে সুপ্রিম কোর্টের বাধা, রায়কে ‘অপমানজনক’ বললেন প্রেসিডেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল দেওয়া এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে চলেছেন, তা তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমার বাইরে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে শুল্ককে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ে সেই নীতির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ হলো।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্ত ‘অপমানজনক’। তার দাবি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ওই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে— এমন সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। পাশাপাশি চালু করা হয় ‘পাল্টা শুল্ক’ ব্যবস্থা।
চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময় এই পাল্টা শুল্ক ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়। ২ এপ্রিলের ঘোষণাকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, এর মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে।
ট্রাম্প যে আইনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছিলেন, সেটি হলো ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’। ১৯৭৭ সালে প্রণীত এই আইনে জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে শুল্ক আরোপের মূল এখতিয়ার কংগ্রেসের হাতে।
আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নিতে পারেন, কিন্তু তা কংগ্রেসের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, এই আইন প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় না।
এর আগে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল আপিল আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই আদালত রায়ে বলেছিল, প্রেসিডেন্ট তার জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিধিবহির্ভূত ব্যবহার করছেন। সর্বশেষ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
শুনানিতে উপস্থিত ৯ বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে মত দেন।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সূত্র : এএফপি।



