মাঝ আকাশে একটি বিমানের ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য যাত্রীরা প্রাণে বেঁচেছেন। পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্তে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিক এয়ারের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট দক্ষিণ নাইজেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বুধবার সকালে বোয়িং ৭৩৭-৭০০ মডেলের একটি বিমান লাগোস থেকে পোর্ট হারকোর্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিমানটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৪ মিনিটে মুরতালা মুহাম্মদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এটি প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বাম পাশের ইঞ্জিনে বিকট শব্দ শোনা যায়।
ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের পরপরই পাইলটরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। এ সময় জরুরি সেবা দল প্রস্তুত ছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের একটি ইঞ্জিনের ধাতব আবরণ সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেছে এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ ও ফ্যান ব্লেড দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ‘ফ্যান ব্লেড অফ’ ধরনের ঘটনা হতে পারে, যেখানে ইঞ্জিনের একটি ব্লেড ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি করে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন ধ্বংসাবশেষ বিমানের লেজের উল্লম্ব স্থিতিশীল অংশেও আঘাত হেনেছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বিমানে মোট ৮০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, কেউ আহত হননি এবং সবাই নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে এসেছেন।
নাইজেরিয়ান সেফটি ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, একটি প্রাথমিক তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা বিমানের তথ্য সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার এবং ফ্লাইট ডাটা ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার পরীক্ষা করবে।
এদিকে বিমানটি আপাতত গ্রাউন্ডেড রাখা হয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি উড্ডয়ন করবে না।



