গাজায় ৮ হাজার সৈন্য পাঠাতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
গাজা উপত্যকায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশনে অংশ নিতে প্রায় ৮ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের প্রেক্ষাপটে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে এমন প্রস্তুতির ঘোষণা দিল জাকার্তা।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুনতাক জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। গাজায় তাদের দায়িত্ব মূলত চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা প্রদান কেন্দ্রিক হবে।
সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী, এই বোর্ডের অধীনে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই বাহিনী গাজার সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখা এবং অঞ্চলটির সামরিকীকরণ বন্ধে কাজ করবে। পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে গাজার সম্ভাব্য নতুন টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি সরকার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও এই বোর্ডের ওপর বর্তাবে।
তবে ইন্দোনেশিয়ার সেনা মোতায়েনের সময়সূচি ও সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নীতিগতভাবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশটির ভেতরে বিতর্কও তৈরি করেছে। ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে কিছু ইসলামি গোষ্ঠী এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর যুক্তি, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হিসেবে গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইন্দোনেশিয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তার ভাষ্য, এ অংশগ্রহণ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী একটি এলাকা ইন্দোনেশীয় সেনাদের জন্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে কয়েক হাজার সেনার জন্য ব্যারাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো আরও কয়েকটি মুসলিম দেশও সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, তাদের অংশগ্রহণ কেবল শান্তিরক্ষী মিশনেই সীমিত থাকবে এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনায় তারা যুক্ত হবে না।
এরই মধ্যে ইসরায়েল গাজার কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং হামাস অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনী যে পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করবে, সেখানে স্থায়ী শান্তি এখনো অনিশ্চিত।



