গাজা দখলে ইসরায়েলের নতুন আইন অনুমোদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজার আরও এলাকা দখল এবং পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের জন্য নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের জমি কেনা সহজ হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়বে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এ সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর একে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখল বৈধ করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।
হামাস পশ্চিম তীরের জনগণকে দখলদার বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। জর্ডানও এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি অবৈধ সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট ও হারেৎজ জানিয়েছে, নতুন নিয়মে পশ্চিম তীরে ইহুদিদের জমি কেনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি কিছু ধর্মীয় স্থানের ব্যবস্থাপনা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে যাবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৬৭ সালের পর এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুতর সংযুক্তিকরণের পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার শক্তির নাগরিকদের বসবাস নিষিদ্ধ হলেও নতুন সিদ্ধান্তে রামাল্লার মতো শহরেও বসতি স্থাপন সম্ভব হবে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, “আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিতে থাকব।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও বসতি স্থাপনকে সরকারের অবিচ্ছেদ্য নীতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ সতর্ক করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির লঙ্ঘন। এটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ধ্বংস করবে এবং অঞ্চলকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।



