এনডিটিভির বিশ্লেষণ
বিএনপির ইশতেহারে ভারত-কেন্দ্রিক ইস্যুতে জোর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহার প্রকাশের পর তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিএনপি পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভারত-কেন্দ্রিক’ বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির ইশতেহারে সীমান্ত হত্যা, ভারত থেকে পুশ-ইন এবং অমিমাংসিত নদীর পানি বণ্টনের মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দলটি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে ‘সমতা ও আত্মসম্মান’-কে মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইশতেহারের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজেদের দেশেও কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন ও চোরাচালান রোধে ‘কঠোর অবস্থান’ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে দলটি।
নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে বিএনপি তিস্তা ও পদ্মার মতো অভিন্ন নদীগুলোর ‘ন্যায্য হিস্যা’ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনডিটিভির মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর একটিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে বিএনপি।
এ ছাড়া ইশতেহারে পানি ব্যবস্থাপনাকে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে থাকে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ইশতেহারের ভাষা ইঙ্গিত দেয় যে দলটি ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার পথে হাঁটতে চাইবে। এতে একদিকে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থে জোর দেওয়া হবে, অন্যদিকে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো খোলা রাখা হবে।
এ ছাড়া বিএনপি সার্ককে পুনর্জীবিত করা এবং আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করেছে। এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিকল্প বাড়বে এবং একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি



