এপস্টেইন নথিতে বিস্ফোরক তথ্য: লিবিয়ার অবরুদ্ধ সম্পদ লুটের ছক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ এএম
প্রয়াত কুখ্যাত মার্কিন অর্থলগ্নি কারবারি ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের আরও এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় সামনে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত একগুচ্ছ নথিতে উঠে এসেছে, লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবরুদ্ধ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক করেছিলেন এপস্টেইনের এক সহযোগী। এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে অন্তর্ভুক্ত ২০১১ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনকে পাঠানো একটি ই-মেইলে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ই-মেইলে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লিবিয়ার প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবরুদ্ধ রয়েছে, যার মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে ৩২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এপস্টেইনের সহযোগীর অনুমান ছিল, প্রকৃত অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ এর তিন থেকে চার গুণও হতে পারে।
ই-মেইলে বলা হয়, ‘যদি আমরা এই অর্থের ৫ থেকে ১০ শতাংশ উদ্ধার করতে পারি এবং এর বিনিময়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিশন পাই, তাহলে আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মালিক হতে পারব।’ এই মন্তব্যকেই নথির সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ই-মেইলের প্রেরক দাবি করেন— এমআই৬ ও মোসাদের বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এই তথাকথিত ‘চুরি হওয়া সম্পদ’ শনাক্ত ও উদ্ধারে সহায়তা করতে আগ্রহী ছিলেন। পাশাপাশি গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়া পুনর্গঠনে সম্ভাব্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ের ওপর প্রভাব বিস্তারের একটি নীলনকশার কথাও আলোচনায় আসে।
নথি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় একাধিক আন্তর্জাতিক আইন সংস্থাকে যুক্ত করার কথাও ভাবা হয়েছিল। লিবিয়ার বিশাল জ্বালানি সম্পদ ও শিক্ষিত জনশক্তিকে পুঁজি করে কীভাবে আইনি ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চলেছিল, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় এসব নথিতে।
গাদ্দাফির পতনের ঠিক আগমুহূর্তে লিবিয়ার টালমাটাল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের লুণ্ঠনের যে ছক কষা হয়েছিল, এপস্টেইন-সংক্রান্ত এই নতুন নথি তা আবারও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।



