যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, ৬ শিশুসহ নিহত অন্তত ৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশুসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার ঠিক এক দিন আগে এই হামলাগুলো চালানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য স্থাপিত একটি তাবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। তাদের মরদেহ খান ইউনিসের আল-নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এদিকে গাজা সিটির পশ্চিমের রেমাল এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিমান হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, হামলার পর বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকা ঘন কালো ধুলোর মেঘে ঢেকে যায়। ওই ভবনের ভেতরে এক মা ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। তিনি আরও জানান, গাজা সিটির দারাজ এলাকায় আরেকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বোমা হামলায় আটজন আহত হয়েছেন। এসব হামলা ঘটেছে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে, যেখানে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছিল।
এ ছাড়া খান ইউনিসে একটি ভবন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পূর্ব সতর্কবার্তার পর যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সর্বশেষ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতিকে ‘নামমাত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, যুদ্ধবিরতির অর্থ অস্ত্র নীরব হওয়া এবং যুদ্ধ শেষের বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া। গাজার মানুষ বহু আগেই একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতির দাবিদার।
যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মিসর রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার আগে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানায়। কাতার এই সহিংসতাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এতে যুদ্ধবিরতি টেকসই করার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রাফাহ এলাকায় একটি টানেল থেকে আটজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধা বেরিয়ে আসার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের চারজন কমান্ডারসহ কয়েকজন যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য সুহাইল আল-হিন্দি ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধ এবং এমন এক শত্রুর কাজ, যারা কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখায় না।
গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রাফাহ শহরের বাসিন্দারাও ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের মে মাসের পর এই প্রথম রোববার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা রয়েছে। এটি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যদিও প্রথম ধাপেই এটি খোলার কথা ছিল। ইসরায়েল জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কেবল সীমিত সংখ্যক, নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত মানুষ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে এবং কোনো ত্রাণ বা মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ উল্লেখ করে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি এবং আহতদের গাজার বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান জানান।



