ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্থগিত করল রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রাশিয়া। এই বিরতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গত ৩০ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই বিরতি যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে রাশিয়া আশা করছে।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি পেসকভ। ইউক্রেনের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা একই সময় পর্যন্ত ইউক্রেনও হামলা বন্ধ রাখবে কি না—এমন প্রশ্নেরও উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আগামী এক সপ্তাহ ইউক্রেনে হামলা চালাবে না রুশ বাহিনী। তিনি বলেন, ইউক্রেনে তীব্র শীত চলছে। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে হামলা বন্ধের অনুরোধ জানান এবং পুতিন তাতে সম্মতি দেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তাদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
এদিকে আগের দিন বুধবার ইউক্রেনের একজন সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউক্রেনে তীব্র শীত বিরাজ করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
প্রসঙ্গত, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে কিয়েভের তৎপরতার জেরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।
এই অভিযানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ প্রায় ১২ লাখের বেশি বাড়িঘর।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে রয়েছে। সূত্র : আরটি



