সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক হামলা এড়াতে দেশটিকে দুটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, ইরানের কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি থাকতে পারবে না এবং দ্বিতীয়ত, দেশটিকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “প্রথম—কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। দ্বিতীয়—বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে। তারা হাজারে হাজারে মানুষকে হত্যা করছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এগুলো ব্যবহার না করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য। সেই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বাহিনী “ট্রিগারে আঙুল রেখে” অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার তিনি তুরস্কে পৌঁছান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে আলোচনার জন্য। এর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে উত্তেজনা হ্রাসে আঙ্কারার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, তিনি আশা করেন ইরান দ্রুত আলোচনায় বসবে এবং একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাবে—যেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছিলেন, একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে যা প্রয়োজনে কঠোর অভিযান চালাতে সক্ষম।
আরাগচি পাল্টা মন্তব্যে বলেন, ইরান সবসময়ই সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভয়ভীতি ও হুমকিমুক্ত একটি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্র ইরানের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ নয় এবং দেশটি কখনোই তা অর্জনের চেষ্টা করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হরানা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অন্তত ৬ হাজার ৪৭৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু ও সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ১০০-এর বেশি, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গাকারীদের হামলায় নিহত পথচারী।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং দেশটির ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।



