Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লেনদেন ‘খুবই বিপজ্জনক’

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লেনদেন ‘খুবই বিপজ্জনক’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের সঙ্গে লেনদেন করা ‘খুবই বিপজ্জনক’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে বেইজিং সফরে রয়েছেন, ঠিক সেই সময় এই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পর এসব চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। স্টারমারের তিন দিনের চীন সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্তত ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত এক তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাকে তিনি কীভাবে দেখছেন। উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওটা তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।’

এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, কিয়ার স্টারমারের চীন সফর ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অবগত ছিল। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট আরও জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেরও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে আর মন্তব্য না করে ট্রাম্প আলোচনার দিক ঘুরিয়ে কানাডার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘কানাডার জন্য এটা আরও বেশি বিপজ্জনক।’ তার ভাষায়, ‘কানাডা ভালো অবস্থায় নেই। তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আর চীনকে সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক অর্থনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ করবে। সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফরে গিয়ে এসব চুক্তি করেন।

এদিকে কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক এখন ‘ভালো ও শক্ত অবস্থানে’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। শুক্রবার কিয়ার বলেন, সির সঙ্গে তার ‘খুব ভালো বৈঠক’ হয়েছে এবং এতে যুক্তরাজ্য যে মাত্রার সম্পৃক্ততা চেয়েছিল, সেটিই অর্জিত হয়েছে।

বেইজিংয়ে ব্যাংক অব চায়নায় আয়োজিত ইউকে–চায়না বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে এবং আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।

কিয়ার স্টারমারের চীন সফর থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসামুক্ত ভ্রমণ চুক্তি, হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানো এবং চীনে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা। পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে।

চীনে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ক্রিস টরেন্স স্টারমারের বেইজিং সফরকে ‘সফল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের দিকে তাকানো যৌক্তিক, কারণ চীন দেশটির অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে অন্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে চুক্তিতে সতর্ক করছে, অন্যদিকে নিজেই চীনের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে পারে।

চীন সফরের শেষ ধাপে কিয়ার স্টারমার সাংহাই হয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে যাবেন। সেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে একটি কার্যকরী নৈশভোজে অংশ নেবেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন