ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত নয় ইরান, পাল্টা সতর্কতা তেহরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও ভয়াবহ হামলার হুমকিতে ইরান ভীত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বরং যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের আঙুল ট্রিগারে রাখা আছে। আমাদের প্রিয় দেশের স্থল, আকাশ ও সমুদ্রের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা সঙ্গে সঙ্গে এবং শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের কয়েক দিনব্যাপী সামরিক হামলা এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া মূল্যবান অভিজ্ঞতা আমাদের আরও দ্রুত, গভীর এবং শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে।’
এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেন, ‘একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, এই বহর প্রয়োজনে দ্রুত ও সহিংসতার সঙ্গে নিজেদের মিশন বাস্তবায়নে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন একটি ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি’ এখন সময়ের দাবি।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ। গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি।
চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে। বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এই সপ্তাহে আবারও উত্তেজনা চরমে ওঠে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করে।
এ বিষয়ে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আদনান হায়াজনেহ বলেন, বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষমতা প্রদর্শন’। এর মাধ্যমে তেহরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই হুমকিগুলো মূলত ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশল।
ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার। তবে গত জুনে হামলার পর থেকে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।



