Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইউরোপার বরফের নিচে প্রাণের ইঙ্গিত: রাসায়নিক উপাদান পৌঁছাতে পারে গোপন মহাসমুদ্রে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ এএম

ইউরোপার বরফের নিচে প্রাণের ইঙ্গিত: রাসায়নিক উপাদান পৌঁছাতে পারে গোপন মহাসমুদ্রে

বৃহস্পতির বরফে ঢাকা উপগ্রহ ইউরোপার তলদেশে লুকিয়ে থাকা বিশাল মহাসমুদ্রে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইউরোপার পুরু বরফের স্তর ভেদ করেই এই জীবনদায়ী উপাদানগুলো নিচের মহাসাগরে পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এর ফাটলধরা বরফের পৃষ্ঠের নিচে একটি সুবিশাল লবণাক্ত মহাসাগর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের সম্মিলিত পানির চেয়েও দ্বিগুণ পানি থাকতে পারে। এই কারণেই সৌরজগতের ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধানে ইউরোপাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে ইউরোপার মহাসাগরের সঙ্গে পৃথিবীর সমুদ্রের বড় পার্থক্য হলো—এটি সূর্যালোক ও অক্সিজেন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফলে সেখানে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের সুযোগ নেই। এমন পরিবেশে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে রাসায়নিক শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতদিন বিজ্ঞানীদের বড় প্রশ্ন ছিল, বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণে ইউরোপার পৃষ্ঠে যে অক্সিডেন্ট তৈরি হয়, তা কীভাবে পুরু বরফের স্তর ভেদ করে নিচের মহাসাগরে পৌঁছায়।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন গবেষণা সেই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর দিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউরোপার পৃষ্ঠতলের বরফের কিছু অংশ ধীরে ধীরে নিচের দিকে তলিয়ে যায়। এই অত্যন্ত ধীর কিন্তু ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপরিভাগে তৈরি হওয়া জীবনদায়ী রাসায়নিক উপাদান বরফ ভেদ করে নিচের মহাসাগরে পৌঁছাতে পারে।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও বর্তমানে ভার্জিনিয়া টেক-এর পোস্টডক্টরাল গবেষক অস্টিন গ্রিন বলেন, এটি গ্রহবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা, যা মূলত পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব থেকে অনুপ্রাণিত। তার মতে, এই প্রক্রিয়া ইউরোপার মহাসাগরে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলছে।

বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন, বৃহস্পতির প্রবল মহাকর্ষীয় টানের কারণে ইউরোপার পৃষ্ঠ ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয়। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই গতিবিধি বেশিরভাগ সময় আনুভূমিক হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উলম্ব তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এতদিন বড় ধরনের ফাটল ছাড়া উপরিভাগের কোনো উপাদানের নিচে নামার সুযোগ সীমিত বলেই ধারণা ছিল।

কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে গবেষকরা দেখেছেন, ইউরোপার পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা লবণাক্ত বরফের পকেটগুলো আশপাশের বিশুদ্ধ বরফের তুলনায় বেশি ঘন ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল হতে পারে। নির্দিষ্ট অবস্থায় এসব বরফখণ্ড মূল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক উপাদানগুলো মাত্র ৩০ হাজার বছরের মধ্যেই বরফ ভেদ করে মহাসাগরে পৌঁছাতে পারে, যা মহাজাগতিক সময়ের বিচারে খুবই স্বল্প।

এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হচ্ছে ‘লিথোস্ফিয়ারিক ফাউন্ডিং’, যা অনেকটা পৃথিবীর ভূত্বকের কিছু অংশ ম্যান্টলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউরোপায় এমন প্রক্রিয়া কার্যকর হলে তা সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণাটি যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা ইউরোপার প্রায় ৩০ কিলোমিটার পুরু বরফের স্তর নিয়ে ছয়টি ভিন্ন পরিস্থিতিতে সিমুলেশন চালান। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায়, উপরিভাগের অন্তত ৩০০ মিটার গভীরে থাকা উপাদান বরফের একেবারে তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম।

গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপার উপরিভাগের রাসায়নিক উপাদানগুলোকে নিচের মহাসাগরে পৌঁছে দেওয়ার একটি দ্রুত ও কার্যকর পথ হতে পারে।

আগামী বছরগুলোতে নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশনের মাধ্যমে এই উপগ্রহটি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপণ করা মহাকাশযানটি ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে এবং চার বছর ধরে ইউরোপার খুব কাছ দিয়ে প্রায় ৫০ বার উড়ে যাবে। এতে ইউরোপার বরফের নিচের মহাসাগরের গভীরতা ও সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

উল্লেখ্য, গবেষণাপত্রটি ২০ জানুয়ারি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র : স্পেসডটকম।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন