Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ জানুয়ারি, ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু–কাশ্মীরের জম্মুতে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জম্মুর বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের প্রথম ব্যাচে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হয় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে। এর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান।

এতেই শুরু হয় বিতর্ক। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, হিন্দুদের দানের অর্থে পরিচালিত ওই কলেজে কোনো মুসলমান শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না। বিক্ষোভ ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেডিকেল কলেজটি বন্ধ করে দেয়।

গত ১৩ জানুয়ারি আনন্দবাজার পত্রিকা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিরোনাম করে—‘কোর্স বাতিলে উল্লাস নৃত্য হিন্দুত্ববাদীদের’। পৃথক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে বিজেপির জম্মু–কাশ্মীর শাখার মহিলা মোর্চা ছাড়াও জম্মু চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অরুণ গুপ্তসহ একাধিক ব্যবসায়ী নেতা অংশ নেন। একই পত্রিকার এক মতামত প্রতিবেদনে মেডিকেল কলেজ বন্ধের ঘটনাকে ‘অ-সুস্থ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, বিজেপি-শাসিত ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়নের এমন ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘গেরুয়াবাদীদের’ আচরণ এখন নিত্য আলোচনার বিষয়।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্ডিয়া হেইট ল্যাবের (আইএইচএল) তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ভারতে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৮টিতে। আগের বছর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৫ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৬৬৮। আইএইচএল জানায়, এসব বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে ১ হাজার ১৬৪টিই এসেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্স শিরোনাম করে—২০২৫ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক জনসভা, ধর্মীয় শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, আইএইচএল প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো কর্মসূচি সব সম্প্রদায়কে সমানভাবে উপকৃত করছে। অন্যদিকে আইএইচএল বলছে, তারা জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুসরণ করেই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শনাক্ত করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বেড়েছে। নাগরিকত্ব আইনকে জাতিসংঘ ‘মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ধর্মান্তরবিরোধী আইন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, মুসলমানদের সম্পত্তি ধ্বংস এবং তথাকথিত ‘বুলডোজার জাস্টিস’ এসব নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৪ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মুসলমানদের বাড়ি, ব্যবসা ও ধর্মস্থান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট এসব ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি ঘোষণা করে সতর্কবার্তা দিলেও ঘটনাগুলো থামেনি।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, দলিতদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং আদিবাসীদের বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও উঠে এসেছে এসব প্রতিবেদনে। বড়দিনে আসাম, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লিতে বজরং দল ও সমমনাদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি।

এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৬–২৮ মেয়াদের জন্য ভারত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়েছে। সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেছেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই ভারত এই পদ পেয়েছে।

তবে বিরোধী দল, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রশ্ন—বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ যখন বাড়ছে, তখন ভারতের এই মানবাধিকার দাবির বাস্তব ভিত্তি কতটা শক্ত?

বিজেপি-সমালোচকদের মতে, মোদি সরকার ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে গেরুয়া আদর্শে ঢেকে দিতে চাইছে। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তার উত্তর সময়ই দেবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন