জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হত্যাকারীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর আজ বুধবার এমন রায় দেওয়া হলো।
২০২২ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারায় নির্বাচনী প্রচারণায় ভাষণ দেওয়ার সময় ঘরে বানানো একটি বন্দুক দিয়ে শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যা করেন তেতসুয়া ইয়ামাগামি। ঘটনাস্থলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় আবের বয়স ছিল ৬৭ বছর। তিনি জাপানে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত অক্টোবরে নারা অঞ্চলের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলার প্রথম শুনানিতেই ইয়ামাগামি আবেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে তিনি দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কতটা কঠোর সাজা ঘোষণা করা হবে, তা জানার জন্য অনেকে আজকের দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের খবরে বলা হয়, রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক শিনিচি তানাকা এই গুলির ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করাটা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নৃশংস অপরাধ, তা স্পষ্ট।’
সরকারি কৌঁসুলিরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, এই গুলির ঘটনা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে এমন নজির আগে কখনো দেখা যায়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সাজার মেয়াদ কম রাখার জন্য আবেদন করেছিল। তারা চেয়েছিল, সাজা যেন ২০ বছরের বেশি না হয়। আসামীপক্ষের যুক্তি ছিল, ইউনিফিকেশন চার্চকে ঘিরে পারিবারিক সমস্যাই এ হামলার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল।
হামলার সময় শিনজো আবে আর জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তবু তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভেতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঐক্য ধরে রাখার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এর পর থেকে দলটিকে দুবার নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদেও বারবার পরিবর্তন এসেছে।
শিনজো আবে দুই দফায় মোট ৩ হাজার ১৮৮ দিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অসুস্থতার কথা বলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সানায়ে তাকাইচি বর্তমানে জাপান ও এলডিপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে ক্ষমতার দিক থেকে দলটির অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আবের হত্যার ঘটনায় তাঁর দল ও ইউনিফিকেশন চার্চের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দলটির ভেতরে চালানো এক তদন্তে দেখা গেছে, ধর্মীয় এই সংগঠনের সঙ্গে শতাধিক আইনপ্রণেতার যোগাযোগ ছিল। এ কথা জানাজানি হওয়ার পর অনেক ভোটার এলডিপি থেকে দূরে সরে গেছেন।
সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে ইয়ামাগামি আদালতে বলেছেন, তাঁর মা ইউনিফিকেশন চার্চে বড় দান করার কারণে তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এজন্য তাঁর মনে ক্ষোভ ছিল এবং সেই রাগ আবের ওপরই ঝেড়েছেন। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একবার ইউনিফিকেশন চার্চের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইউনিফিকেশন চার্চ গণবিয়ের জন্য পরিচিত। জাপানি অনুসারীদের অনুদানকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করে সংগঠনটি।
দেশীয় রাজনীতিতে আবেকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর আবে প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে একাধিকবার একসঙ্গে গলফ খেলেছেন তাঁরা। এতে তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বারবারই এই বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।



