পাঁচ ঘণ্টা বন্ধের পর ইরানের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে, ফ্লাইটে বিঘ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশপথ বন্ধ রাখার পর ইরান আবারও তাদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন কিংবা বিলম্বের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করেছিল বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, বুধবার ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২২১৫) ইরান সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। তবে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আগমন ও বহির্গমন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ১০টার কিছু আগে (গ্রিনিচ মান সময় ০৩০০) ওই নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়। এর পরপরই ইরানি এয়ারলাইনস মাহান এয়ার, ইয়াজদ এয়ারওয়েজ ও এভিএ এয়ারলাইনসের মোট পাঁচটি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণার সময়ের কাছাকাছি সময়ে আগের সপ্তাহে ইরানের আকাশে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল করছিল।
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বুধবার জানানো হয়, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটন হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানবে। এমন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু জনবল প্রত্যাহার শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় হুমকি তৈরি করে। এই ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সব মার্কিন বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি ফ্লাইটও নেই।
গত এক সপ্তাহে ফ্লাইদুবাই, তুর্কিশ এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ইরানগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণার পর তেহরানগামী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লোটের একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকেই মস্কোতে ফিরে যায়।
এদিকে বুধবার জার্মানি নতুন একটি নির্দেশনা জারি করে দেশটির এয়ারলাইনসগুলোকে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন করে সমন্বয় করে জার্মানির বৃহত্তম বিমান পরিবহন গ্রুপ লুফথানসা। এর কিছুক্ষণ পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়।
লুফথানসা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে। একই সঙ্গে বুধবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত তেল আবিব ও আম্মানে কেবল দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যাতে ক্রুদের রাতযাপন এড়ানো যায়। এসব সিদ্ধান্তের ফলে কিছু ফ্লাইট বাতিলও হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
লুফথানসা গ্রুপের বড় অংশীদার ইতালীয় বিমান সংস্থা আইটিএ এয়ারওয়েজও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা তেল আবিবগামী রাতের ফ্লাইট স্থগিত রাখবে।
ইরানের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধের প্রভাবে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ব্যাহত হয়েছে। ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এতে প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিকল্প রুট ব্যবহারের কারণে কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব বা বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট ঝুঁকি–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা ওপিএসগ্রুপ পরিচালিত ‘সেইফ এয়ারস্পেস’ ওয়েবসাইট জানায়, বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং অধিকাংশ সংস্থা ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি আরও নিরাপত্তাজনিত বা সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিতে পারে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কিংবা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের ঝুঁকিও রয়েছে। এতে বেসামরিক বিমান ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইরানের সামরিক বাহিনীর ভুল হামলায় ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত হয়। ওই ঘটনায় বিমানের ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সবাই নিহত হন।



