ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে কাতারের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার দোহায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনো ধরনের উত্তেজনা গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে।”
গত বছর জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের ভূখণ্ডে সেটিই ছিল প্রথম বিদেশি হামলা। এরপর কাতার মধ্যস্থতা করে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে, যা এখনও বলবৎ রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। কয়েক দিনের মধ্যে আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশে। বিক্ষোভ দমনে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানি জনগণের আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “শিগগিরই মার্কিন সহায়তা আসছে।”
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।



