ইরানে বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহর শত্রু’, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা গণবিক্ষোভের মধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী যে কাউকে ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে, যা ইরানি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়াই নয়, যারা ‘দাঙ্গাবাজদের সহায়তা’ করবে তাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হবে।
ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিরোধিতায় জড়িত থাকে, তবে তাদের সব সদস্য ও সমর্থক যারা জেনেশুনে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে, তাদের মোহারেব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও আইনটি প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১৯০ অনুচ্ছেদে মোহারেব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসিতে ঝোলানো, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ী অভ্যন্তরীণ নির্বাসন।
যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কতা উপেক্ষা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রসিকিউটরদের কোনো বিলম্ব ছাড়াই অভিযোগপত্র ইস্যু করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে ও বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নমনীয়তা, সহানুভূতি বা প্রশ্রয়ের সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে টেলিফোন যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।
এর মধ্যে ইরানের নির্বাসিত রাজপরিবারের সদস্য রেজা পাহলভি বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রোববার জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ইরানের পুরোনো ‘সিংহ ও সূর্য’ খচিত পতাকা এবং শাহ আমলের অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করে জনসাধারণের স্থানগুলো দখলে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১৪ লাখের নিচে নেমে যাওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরে তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।



