সিরিয়ায় বড় আকারের মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস/আইএসআইএল) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে ‘বড় পরিসরের’ সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে পালমিরা শহরে সংঘটিত এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক অনুবাদক নিহত হওয়ার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। হামলাগুলোতে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা সহযোগী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে। তবে কোন বাহিনী এতে অংশ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
পালমিরায় গত ১৩ ডিসেম্বর সংঘটিত হামলায় এক বন্দুকধারীর গুলিতে দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক অনুবাদক নিহত হন।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলাকারী ব্যক্তি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং কট্টরপন্থী মতাদর্শের কারণে তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, পালমিরার ওই ঘটনার পর ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ নামে অভিযান শুরু করা হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সিরিয়ায় আইএসের অবকাঠামো ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর জানানো হয়, অভিযানে আইএসের অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত বা আটক হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অংশীদার হিসেবে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) কাজ করছে। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়িয়েছে।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেনাসংখ্যা কমিয়ে একটি ঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



