গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিতে ইউরোপীয়দের একজোট হওয়ার সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো একজোট হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলেই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রুবিও আশ্বস্ত করেছেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, গ্রিনল্যান্ডে তেমন কিছু হবে না।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা স্পষ্ট করেছে—গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের এবং এর সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।
ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োহানেস কোসকিনেন বলেন, বিষয়টি ন্যাটোর ভেতরে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যৌথ পরিকল্পনা উপেক্ষা করে একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারে কি না, সে বিষয়ে মিত্রদের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। রাসমুসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, চিৎকারের রাজনীতি বন্ধ করে যুক্তিসংগত সংলাপ শুরু করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করা হলে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কসহ ৮০ বছরের নিরাপত্তা সহযোগিতা ভেঙে পড়তে পারে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা পরিষ্কার—এটি তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
কেন গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ, যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ না করলেও মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ড ‘কেনা’।



